চেয়ারম্যানের বাণী

 

‘আদল’ কর্পোরেশন এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

তথ্য প্রযুক্তির যুগে তথ্য সেবার মাধ্যমে মানব সেবার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করাই আদল-এর প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থান এ সকল মৌলিক চাহিদা পূরণে সচেষ্ট থাকা এবং অপরকে সহযোগিতা করা প্রত্যেকটি মানুষেরই নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।
ফুটপাতে পড়ে থাকা জীর্ণবস্ত্র পড়া অনাহারি কঙ্কালশার মানুগুলোর অসহায়ত্ব মানবিক আবেদন যে কোনো মানবতাবাধী, বিবেকবান মানুষকে পিড়ীত করে। মানিবকমূল্যবোধ যাদের আছে তাদের দৃষ্টি এক পলকে তাদের দিকে পড়তে বাধ্য। কর্তব্যের দায় থেকে এ সকল অসহায় মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আদল সকলের সহযোগিতা নিয়ে বরাবরই কাজ করার মানসিকতা নিয়ে প্রস্তুত এবং অঙ্গীকারাব্ধ।
তাদের এই অসহায়ত্বের করুণ পরিণতি থেকে উত্তোরণের উপায় আপনার আমার, সমাজের অন্যান্য পেশাজীবী নাগরিকদের ভাবতে হবে এবং দায়িত্ব নিতে হবে। এ মানসিকতার সৃষ্টির মাধ্যমে আমরা তাদের প্রতি মানব প্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারি। আমরা যদি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের ব্যর্থ হই তাহলে সমাজের কর্ণধার পদের দাবিদার বলতে পারি না। এক্ষেত্র আমাদের দাবি করার নৈতিক অধিকার থাকে না। আদল কর্পোরেশন মনে করে এ সকল অসহায় জনগোষ্ঠীকে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্রোতধারায় নিয়ে আসতে পারলে তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের কোন ব্যত্যয় ঘটবে না।
পৃথিবীময় সর্বত্র নিজ নিজ চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণার মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এগিয়ে চলছে অব্যাহতভাবে। অর্থনৈতিক এই উন্নয়নে কিছু সংখ্যক লোক যেমন উন্নত জীবন-যাপন করছেন, অপরদিকে বিরাট সংখ্যক লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন। তথ্য-প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ‘আদল কর্পোরেশনে’র মাধ্যমে এই বৈষম্যমূলক বন্টনের অবসান ঘটিয়ে সুষম অর্থনৈতিক বন্টন নিশ্চিত করতে পারি।
প্রায়ই আমরা লক্ষ্য করি, কোনো গন্তব্যে যাওয়ার সময় বাসে বা ট্রেনে উঠারকালে প্রচুর সংখ্যক যাত্রী এক সাথে জটলা হয়ে থাকেন, সকলই একই সাথে বাসে বা ট্রেনে উঠতে চান। ফলে যে সমস্যাগুলির সৃষ্টি হয়, তা সকলই আমরা অবগত আছি। শুধু লাইনে দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে যাত্রীরা বাসে বা ট্রেনে উঠলে এই সমস্যার সমাধান মিলে এবং যাত্রীদের আরাম ও আয়েসও নিশ্চিত হয়। তেমনিভাবে সুশৃঙ্খল নিয়মের মাধ্যমে অর্থনীতির এই বৈষম্য দূরীকরণ করা সম্ভব।
আমাদের দেশের উন্নয়নের অন্যতম সমস্যা, পরস্পরের চিন্তার অমিল। এই সমস্যা দূরীকরণে আমরা যদি একটি পলিসি বা পদ্ধতি নির্ধারণ করতে পারি, তাহলে এ সমস্যার সমাধান সহজ হয়। আদল মনে করে, সে পলিসি বা পদ্ধতি অনুসারে ব্যক্তি তার চিন্তাকে শানীত করে একটি ফেমওয়ার্কের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্রোতে যোগদান করতে পারবেন সতঃস্ফূর্তভাবেই।
একজন ব্যক্তি যদি একাই বিদ্যুতের সেবা নিতে চান তাহলে বিদ্যুতের এই সেবা পেতে হলে বিপুল অঙ্কের টাকার প্রয়োজন পড়বে যা অধিকাংশ জনগণের পক্ষে সম্ভব হবে না। গুটি কয়েকজনের পক্ষে হয়ত সম্ভব হতে পারে। কিন্তু সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা অনায়াসে বিদ্যুৎসেবা পেতে পারি। আমাদের তথ্য-প্রযুুক্তির মহাসড়কে একজন সচেতন নাগরিক সম্পৃক্ত হলে কোটি কোটি মানুষের সেবাচক্রের মাধ্যমেই আমাদের বৈষম্যময় অর্থনীতির দূরাবস্থা অনেকটা কাটাবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।
আমাদের দৃষ্টিতে ধরা পড়েছে ব্যবসার ক্ষেত্রে অসুস্থ্য প্রতিযোগিতা। অসুস্থ্য প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে কেউ টিকতে পারছেন আবার কেউ টিকতে পারছেন না। কৌশলে আবার কাউকে টিকতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রচলিত অসুস্থ্য প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ব্যবসায়ী ইচ্ছা মত মূল্যেপণ্য বিক্রয় করে বটবৃক্ষের ন্যায় বৃত্তশালী হচ্ছেন। বড় গাছের নিচে যেমন ছোট গাছ বেড়ে ওঠতে পারে না, তেমনি বড় ব্যবসায়ীর কারণে ছোট ব্যবসায়ীরা ব্যবসায় টিকে থাকতে পারে না। যার কারণে ক্রেতারা পণ্যেরে ন্যায্য মূল্য যাচাইয়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকছেন। অসাধু ব্যবসায়ী চুতরতার সহিত একছত্র ব্যবসা করে জনগণের টাকা লুটে নিচ্ছেন। যা অনৈতিক। প্রচলিত নিয়মের অসুস্থ্য প্রতিযোগীতার দেয়াল ভেঙে সহযোগিতা, ভ্রাতিত্ববোধের বন্ধন ও মানব প্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমেই কাক্সিক্ষত সফলতা আনা সম্ভব।
বর্তমান বাজারে শ্রমিকের মুজুরি ইনসাফভিত্তিক নয়, মার্কেটভিত্তিক। একজন শ্রমিকের পরিবার ন্যূনতম স্বচ্ছলভাবে বেঁচে থাকার জন্য কত টাকা প্রয়োজন, তা বিবেচনা না করে, আমরা শুধু বিবেচনায় রাখছি কোনো মতে বেঁচে থাকার জন্য তাকে যতটুকু বেতন প্রদান না করলেই নয়, আমরা কেবল তাই দিচ্ছি। শ্রমিকের ঘামের টাকা কেউ কেউ বিলাশ-বহুল জীবন যাপন করছেন। আর অন্যদিকে শ্রমিক দিন দিন কঙ্কালশারে পরিণত হচ্ছেন। শ্রমের বাজারে শ্রমিক যে দিন শ্রম দেওয়ার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেন, তখন তাকে ডাস্টবিনের ময়লার মত ফেলে দেওয়া হয়। তা মানবতার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও দুঃখজনক। বর্তমান বাস্তবতায় শ্রমের বাজারে যে লোকটির মূল্য নেই, প্রচলিত পদ্ধতিতে তার এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকাই যেন কষ্টসাধ্য। শ্রমবাজার বিবেচনায় নয়, মানবতার দিক বিবেচনায় তাদের জন্য সহজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই ‘আদল’-এর উদ্দেশ্য। ইনসাফভিত্তিক শ্রমিকের মুজুরীর নিশ্চিয়তাসহ মানব প্রেমেব্রতী হয়ে এই অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় প্রত্যয় নিয়েই ‘আদল’-এর পথচলা।

নারীর প্রতি আদলের ভাবনা

বদলে গেছে অনেক,
বদলে যাবে আরো।
স্থান দিতে চাই,
যা কিছু ভালো।

এই পৃথিবীর উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে নারীর অবদান অপরিসীম। পুরুষ যদি মাছ ধরার জাল হন, নারী হবেন মাছ রাখার পাত্র। ছেড়া জাল দিয়ে যেমন কিছু না, কিছু মাছ ধরা যায়, কিন্তু ভাঙা ‘পাত্রে’ মাছ রাখলে কোন মাছ খোঁজে পাওয়া যায় না। উন্নয়নমূলক সকল কর্মকাণ্ডের নারীকে পুরুষের সাথে সমন্বয় করেই কর্মপদ্ধতি এবং কর্মকৌশল নির্ধারণ করা উচিত।
নারীকে উপক্ষো করে জগতসংসারের উন্নতি আশা করা যায় না। তার অবদান পরিবারের উন্নয়নে অপরিসীম। অথচ প্রচলিত পদ্ধতিতে নারীর গৃহকর্মের অর্থনৈতিক মূল্য অতি নগন্য। নারীর গৃহকর্মকে অর্থনৈতিকভাবে স্বীকৃতি দিলে নারীর মনোভাব চাঙ্গা হবে। পারিবারিক উন্নয়ন তরান্বিত হবে। যে সমাজে নারী দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবেন, নারী নিরাপদ থাকবেন, সে সমাজ উন্নতির শিখরে আরোহন করবে। নারীর শ্রমের মুজুরী কোনো অংশেই পুরুষের চেয়ে কম হতে পারে না। শুধু মার্কেট ভেল্যু দেখলেই হবে না। মানবিক দিকটিও বিবেচনায় আনতে হবে।
নারী জাতিরও কিছু দুর্বলতা লক্ষ্য করা যায়। এ থেকে উত্তোরণের জন্য তাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। নারীদের কর্ত্যেেবর অবহেলা বেড়ে চলছে টিভি সিরিয়াল দর্শণ নেশাগ্রস্থতায়। সংসার, সন্তান, কর্ম সবই যেন টিভি সিরিয়ালের কাছে তুচ্ছ। টিভি সিরিয়ালগুলো যে সমাজের বিষবৃক্ষ রোপণ করেছিল এবং রোপণ করে যাচ্ছে তার নেতিবাচক ফল পাচ্ছি আমরা। প্রতিনিয়ত পত্রপত্রিকায় এসব বিষয় নিয়ে শিরোনাম হচ্ছে। যা একটি সুস্থ্য ও স্বনির্ভর সমাজ গঠনের অন্তরায়। চিন্তাশীল নারীদেরকেই টিভি সিরিয়াল দর্শণের নেশাগ্রস্থ নারীদের মুক্তির জন্য নতুন নতুন কর্মসংস্থানের উদ্যোগী হতে হবে। এবং তাদেরকে এ সকল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের কর্মগুলোও যেন সহজ এবং সম্মানজনক সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং তাদের উন্নয়নের অর্থনৈতিক স্রোতধারায় নিয়ে আসতে হবে।
‘আদল’ পিছিয়ে পড়া, সিরিয়াল দর্শণ নেশাগ্রস্থ নারীদের কর্মসংস্থান তৈরি করে অর্থনৈতিক মূল স্রোতে নিয়ে আসার জন্য কর্মপদ্ধতি ও কর্মকৌশল নির্ধারণ করতে চায়। কর্মপদ্ধতি এবং কর্মকৌশলের মাধ্যমেই এ সকল নারীরা আগামী দিন সুন্দর-সোনালী জীবন ফিরে পেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন শুধু এ সকল নারীদের নিজকে বদলে নেয়ার মানসিকতা, সচেতনতা এবং সর্বপরি আদলকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা।
ধনী-গরিব মানদ- নির্ণয়
আমরা সকলে ধনী হতে চাই। ধনী হওয়ার প্রতিযোগিতায় বিভোর আমরা। এই প্রতিযোগিতায় পদধ্বলিত হচ্ছে আমাদের সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, শিক্ষা, সংষ্কৃতি, নৈতিক মূল্যবোধ, উদ্ভাবনী চিন্তাসহ ভালো বিষয়গুলো। বর্তমান সময়ে ধনী-গরীব নির্ণিত হচ্ছে কেবল মাত্র অর্থনৈতিক মানদণ্ডের বিচারে। বাকী সব বিষয়গুলো উপেক্ষিত। উল্টোভাবে যদি আমরা চিন্তা করি, তাহলে ধনী-গরীব পার্থক্য নির্ণয় কেমন হতো তা কী আমরা ভেবে দেখেছি? আদল-এর দৃষ্টিতে ধনী তারাই যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সৎ গুণাবলি রয়েছে। আমরা দৃষ্টিভঙ্গি বদলালে সমাজ বদলে যাবে। সমাজের সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, মানবতা মুক্তি পাবে।

 

Dr. Mohammad Enamul  Hoque
Chairman
www.adolbd.com
Phone: 01733840861
email: dr.menamulh@gmail.com.
Adress: 93/Awest dholir per kodomtoli dhaka1204.Bangladesh